শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ , ৪ বৈশাখ ১৪৩৩

Aporup Bangla

গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম

শিল্প-সাহিত্য

শিশির আজম

প্রকাশিত: ০৭:৪৬, ২৪ অক্টোবর ২০২৫

সর্বশেষ

গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম

চিত্র : মোহাম্মদ নূরুল হক

সুর
 

আমাকে পাখিই বলা হতো
কিন্তু আমি কি উড়ি
আমার কি ডানা আছে

আমার বন্ধু একজন বিপরীতে নিরানব্বই জন
সমস্ত কোলাহলের ভিতর তারা পবিত্র
নিজেদের জামাজুতো সামলে রাখতে পারে
ভাগ্যিস তারা জানে না কোথায় অন্ধকার চেলাকাঠ

ঠিকই পারস্যের গালিচা চিরে গোলাপী বাতাস
এতটা আকর্ষণীয়
স্যাঁৎসেঁতে ফুসফুস মোচড় দিয়ে ওঠে
কোন নির্জন ভ্রমণ
মানুষের ব্যাস্ততায় একটি ঘামের বিন্দুও না

যদি জিগ্যেস করো
তো নিরানব্বই জনই বলবে
আমার গলায় সুর নেই

আর ঐ নিরানব্বই জনের স্বার্থে
যখন আমার গলা চিরে ফেলা হয়
তখন নতুন একটা বিতর্ক ওঠে
সুর বিষয়ে

মাকে এই প্রথম
 

বাড়ি
আবার রং করেছি

নববর্ষ
আবার এলো

মা
এলো না

আদিবাসী পিতা
 

কাঁটা আমাদের রক্ষা করেছিল। ছোট ছোট আলো, হাঙরের চোখ --
কীভাবে অসভ্য মেয়ে বড় হয় গাছের বাকলে,
জানতেন আদিবাসী পিতা। তরুলতা, চাঁদ, পাথরের স্তূপ
জড়ানো রাস্তার মতো মিলেমিশে -- বিষ ও অসুখে
নিশীথরাত্রির সিঁড়ি জ্বলে ওঠে।
শিখতে হয় না কিছু, মানতে হয় না।
নক্ষত্রের অন্ধকারে গ্রহ আবিষ্কার -- দূরত্ব চিহ্নিত করা
সাধারণ কাজ নয়।
তোমার হাতের ছাঁপ দেয়ালের গায়ে
সারি সারি। জগৎ ও শিল্পকলা, দুই সৃষ্টি -- কচুর পাতায়
নিরাশ্রয় রিপুকর্ম।

তল

আমার ঘরে একটা খাট
একটা চেয়ার
একটা টেবিল
একটা সিলিং ফ্যান

কোন জোড়া নেই

জানলা আছে একটা
কিন্তু ও তো ডুবে থাকে বাতাসে
রোদে
আর জগতের অসুখী মানুষের কুয়াশায়

ওর তল খুঁজে পাবো
কীভাবে

কারুশিল্প
উঠোনে এক ঝাঁক ছায়া, শান্ত। যেন তার স্তব্ধতা, আমি চাইছি
মুক্তি পেতে -- সুবাসিত রোদ, বর্ষা আসার আগে।
গতকাল দেখেছি ট্যাক্সিস্ট্যান্ডের মেয়েটিকে, পোশাকের ভিতর
আদুরে কুকুর, তার রাগ -- আজ মৃত পিতার তরবারি।
তোমাদের তিন হাজার চোখ ক্লান্ত হয়ে পড়েছে,
এই মহাদেশের ভিতর কোথাও ঘুঘুপাখির অন্ধকার,
কারুশিল্পীরা আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলতে বলতে
আকাশের ছেঁড়া অংশগুলো জোড়া দিতে লাগলো।

জ.ই

Bijoy

সর্বশেষ